দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের প্রখ্যাত ফটোসাংবাদিক ইয়ালদা মোইয়েরিকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। ইসরায়েলি সরকারের স্বার্থে জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাঁকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি, বিক্ষোভ এবং সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে কাজ করে আসছেন ৪৪ বছর বয়সী ইয়ালদা। সাম্প্রতিক সময়ে জানুয়ারি মাসের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে দমন-পীড়ন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ এবং দেশটিতে নতুন করে শুরু হওয়া দমন অভিযানের ঘটনাও তিনি নথিবদ্ধ করেছেন।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইয়ালদার ছবি ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে সাংবাদিকতার কারণেই এবার তিনি নিজেই ইরানি সরকারের নিশানায় পড়েছেন।
সাজা ঘোষণার পরও স্বাধীন সাংবাদিকতা থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো ইঙ্গিত দেননি ইয়ালদা। তিনি বলেন, সরকারের প্রচারণার কাঠামোর মধ্যে কাজ করতে তিনি রাজি নন। একজন ফটোসাংবাদিক হিসেবে করা তাঁর সাক্ষাৎকার, তোলা ছবি এবং সাংবাদিকতার প্রায় সব কাজকেই ইরানি কর্তৃপক্ষ অপরাধ হিসেবে দেখছে।
জানুয়ারির সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় ইরানে ইন্টারনেট যোগাযোগ সীমিত থাকলেও ইয়ালদা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে পরিস্থিতির প্রত্যক্ষ বিবরণ দিয়েছিলেন। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, ২৫ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে এত বড় জনসমাগম আর দেখেননি। পরিবারের সদস্য, শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন বলেও তিনি জানান।
পরে সরকারি দমন-পীড়নে ব্যাপক প্রাণহানির খবর সামনে এলে ইয়ালদা বলেছিলেন, মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের আশা অনেকটাই হারিয়ে গেছে। তাঁর ভাষায়, মানুষ তখন বারবার নিজেদের প্রশ্ন করছিল—তারা কী করতে পারে।
এরপর ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলে আবারও ইয়ালদার সঙ্গে যোগাযোগ করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, অনেক ইরানি মনে করছিলেন যুদ্ধের মাধ্যমে হয়তো সরকারের পতন ঘটতে পারে। তবে ছয় মাস পর সেই মনোভাব অনেকটাই বদলে গেছে বলে জানান তিনি।
ইয়ালদার মতে, এখন মানুষের প্রধান উদ্বেগ অর্থনৈতিক সংকট। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সামর্থ্য হারাচ্ছেন অনেকে। তাঁর ভাষায়, আসল যুদ্ধ এখন অর্থনীতি নিয়ে।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের কারণে ইরানি সরকার বরং আরও শক্তিশালী হয়েছে। তাঁর দেখা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সবচেয়ে কঠোর ও আগ্রাসী রূপ এখন সামনে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাংবাদিকতার কারণে ইয়ালদার ওপর চাপও বাড়ছে। সর্বশেষ সাক্ষাৎকারের কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানি কর্তৃপক্ষ তাঁকে সতর্ক করে দেয়, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে আবার কথা বললে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালানো হবে এবং তাঁর মোবাইল ফোন জব্দ করা হতে পারে।
ভয় পাওয়ার কথা স্বীকার করেও ইয়ালদা বলেন, ১৫ বছর কারাদণ্ড তাঁর কাছে একটি জীবনের সমান। তবে সত্য তুলে ধরা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা করার ঝুঁকি তিনি পুরো জীবনই মেনে নিয়েছেন। এ কারণে তিনি হাল ছাড়ছেন না এবং নিজের সিদ্ধান্তের জন্য তাঁর কোনো অনুশোচনাও নেই।
তিনি বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকদের হাতে কোনো অস্ত্র নেই। তাঁদের একমাত্র অস্ত্র গণমাধ্যম ও সত্য। নিজের দেশের পরিস্থিতি এবং নিজের মামলার কথা মানুষকে জানানো অন্য স্বৈরশাসিত দেশের সাংবাদিকদের জন্যও সহায়ক হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে ইয়ালদা বলেন, ‘আমাকে ভুলে যাবেন না।’
সূত্র: সিএনএন
এমএস/